১৮ এপ্রিল, ২০২৪
৫ বৈশাখ, ১৪৩১

মালিকে দিয়ে চালানো হচ্ছে অ্যাম্বুলেন্স

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সের চালক এখন বাগানের মালি মাজেদুর রহমান। হাসপাতালের বাগানের মালি হলেও করেন না মালির কোনো কাজ। অথচ বেতন নেন মালির আবার চালান অ্যাম্বুলেন্সও।

এদিকে দীর্ঘদিন পর অ্যাম্বুলেন্সচালক যোগদান করলেও তাকে দেওয়া হয়নি গাড়ির চাবি। যোগদানের ১৫ দিনের মাথায় হঠাৎ করে বদলি করা হয় লালমনিরহাট জেলাতে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, একটি ফাইল হাতে নিয়ে হাসপাতাল চত্বর ঘুরাঘুরি করছেন অ্যাম্বুলেন্সচালক শাহিনুর। তিনি জানান, ২০১৭ সালের জুলাইয়ের ১৪ তারিখে মাদক মামলায় আটক করে জেল হাজতে পাঠায় পুলিশ। সেসময় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এরপর কেটে যায় প্রায় ৮টি বছর। এর মধ্যে আদালতের রায় তার পক্ষে আসে এবং পূর্বের কর্মস্থল ঘোড়াঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগদানের অনুমতি মেলে। সে অনুযায়ী চলতি বছরের মার্চের ১৫ তারিখে যোগদানও করেন। কিন্তু মাদকাসক্তের অজুহাতে তাকে দেওয়া হয়নি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর অনুমতি। এ সময় তাকে ডোপ টেস্ট করতে বলা হয়। ডোপ টেস্ট করার পর সেটাও তার পক্ষে আসে।

তখন মালির সঙ্গে সমন্বয় করে গাড়ি চালাতে বলা হয় তাকে। এতে তিনি অসম্মতি জানান। এদিকে গাড়ির চাবির জন্য বার বার দপ্তরে ঘুরতে থাকেন। আর এই সুযোগে গতমাসের চব্বিশ তারিখে তাকে লালমনিরহাটে যোগদানের জন্য চিঠি দেওয়া হয় এবং সেখানে সাত কার্যদিবসের মধ্যে যোগদান করতে নির্দেশ প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কর্তৃপক্ষ আমাকে যতবার নির্দেশ দেবেন ততবারই আমি ডোপ টেস্ট করতে রাজি আছি। কিন্তু এই অজুহাতে একজন বাগানের মালি বছরের পর বছর অ্যাম্বুলেন্স চালিয়ে যাবে এ কেমন কথা।

সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালানোর বিষয়টি স্বীকার করে মালি মাজেদুর জানান, এখানে ড্রাইভার না থাকার কারণে আমাকে অর্ডার দেওয়া হয়েছে গাড়ি চালাতে। তাই আমি দীর্ঘদিন থেকে হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সের চালক হিসেবে আছি।

তিনি আরও বলেন, আমি মালির কাজ করি না। সে কাজগুলো অন্য লোক দিয়ে করানো হয়। সে মালির কাজ করে আর আমি ড্রাইভারি করি।

ঘোড়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, যোগদানের পর জেনেছি এখানে নিয়মিত যিনি অ্যাম্বুলেন্সের ড্রাইভার ছিলেন, তিনি একটা মামলার কারণে দীর্ঘদিন বরখাস্ত ছিলেন। তো ওই সময়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্যাররা রোগীর সেবার স্বার্থে ওনাকে (মালি মাজেদুর) দিয়ে গাড়ি চালাতেন। আর এই কারণে সেই সময় থেকে সক্রিয়ভাবে কোনো ড্রাইভার না থাকার কারণে উনিই চালাচ্ছেন এবং তার ( মালি মাজেদুর) পারফরম্যান্স ভালো ছিল। তাই আমি আর পরিবর্তন করিনি এবং এটা কন্টিনিউ আছে।

তিনি আরও বলেন, সত্যি বলতে আমি নিজেই এক বছর পর জানতে পারি উনি বাগানের মালি। আর এটা নিয়ে আমি আমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি।

ড্রাইভার শাহিনুরকে গাড়ি না দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গাড়ি দেওয়া হচ্ছে না বিষয়টা এরকম না। দীর্ঘদিন ধরে সে চাকরির বাইরে ছিল। গত দুই বছর আমি তাকে পাইনি। সে যে ডোপ টেস্ট জমা দিয়েছে, এটা আমার কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না। তাকে আমি চাবি দেব না বলিনি, তাকে আমি বলেছি বর্তমানে যিনি আছেন তার সঙ্গে তুমি একটু মিলেমিশে চলো।

Scroll to Top