১৪ এপ্রিল, ২০২৪
১ বৈশাখ, ১৪৩১

ভোটে জিতে নৌকার সমর্থকদের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর

মেহেরপুর প্রতিনিধি : নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নাটোরে নৌকার পরাজিত প্রার্থী ও মেহেরপুরে নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কর্মী সমর্থকদের হামলায় বাড়িঘর, দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

জানা গেছে, নাটোর-১ আসনের বাগাতিপাড়া উপজেলায় পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থকদের বাড়িঘর, দোকানপাটে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদের নেতাকর্মীরা এসব সহিংসতা করেছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

এছাড়া মেহেরপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনে ১৮ কর্মীসহ ২১ জন আহত হয়েছেন। কর্মী সমর্থকদের বাড়িঘরে ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পর্যন্ত নাটোর-১ আসনের বাগাতিপাড়া উপজেলায় পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থকদের অন্তত ৩০টি বাড়িঘর-দোকানপাটে হামলা এবং নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পরই বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থক হিসেবে পরিচিত দয়ারামপুর ইউনিয়নের চানপুর এলাকায় ইউপি সদস্য আক্কাস আলীর নেতৃত্বে ৮-৯ জন নৌকার প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের সমর্থক উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-পাঠচক্র সম্পাদক জাকারিয়া হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়।

ফলাফল ঘোষণার পর দুই দফা হামলা হয়েছে নৌকার প্রার্থীর অনুসারী যুবলীগ কর্মী রুহুল আমিন রুবেলের বাড়িতে। দয়ারামপুর ইউনিয়নের সোনাপুর বাজারের মিস্টারের মুদি ও চায়ের দোকান, বাগাতিপাড়া পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হাজি, আওয়ামী লীগ কর্মী কাচু ও তুষারের বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য ও পরাজিত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুল বলেন, ভোটের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে দুই উপজেলায় আমার নেতাকর্মীদের ৩০ থেকে ৪০টি বাড়িতে তাণ্ডব চালিয়েছে তারা (বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা)। অনেক নেতাকর্মীকে মারধর ও লাঞ্ছিত করেছে। এসব হামলার বিষয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানিয়েছি এবং ঘটনার প্রতিকার চেয়েছি। চংধুপইল ও ওয়ালিয়াতে এখনও অনেক নেতাকর্মী ঘর থেকে বের হতে পারছে না।

এ বিষয়ে নব নির্বাচিত সদস্য সংসদ সদস্য (স্বতন্ত্র) অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘কোথাও ভাঙচুর হয়নি। কিছু হলে আমি জানতাম।’

বেশ কয়েকটি হামলার ঘটনা শিকার করে বাগাতিপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নান্নু খান বলেন, ‘নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিজয় মিছিল থেকে নৌকার প্রার্থীর সমর্থকদের বেশ কয়েকটি বাড়িতে ইট পাটকেল মেরেছে। ওইসব ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন পুলিশ।’

এদিকে মেহেরপুরে নির্বাচনোত্তর সহিংসতায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনে ১৮ কর্মীসহ ২১ জন আহত হয়েছেন। সোমবার ( ৮ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মুজিবনগর উপজেলায় আনন্দবাস গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে আনন্দবাস গ্রামে মেহেরপুর-১ আসনে নৌকার প্রার্থী ফরহাদ হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা বিজয় মিছিল বের করেন। মিছিলটি স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতা জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মুজিবনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জীয়া উদ্দীন বিশ্বাসের বাড়ির সামনে পৌঁছালে মিছিলের মধ্যে থেকে পরাজিত স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক কর্মীকে চড় থাপ্পড় মারা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হন স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন।

পরে তারা ছাদের ওপর থেকে নৌকার কর্মী সমর্থকদের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন। ঘটনার এক পর্যায়ে তারা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে নৌকার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা চালান। এতে নৌকার পক্ষের ১৮ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর তিন কর্মী-সমর্থক আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মুজিবনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদৌস আলীসহ তিন কর্মীর অবস্থা গুরুতর হলে তাদের মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল কুমার দত্ত্ব জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান মুজিবনগর থানা পুলিশের একটি দল। উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কেউ মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।

আহতরা হলেন- উপজেলার আনন্দবাস গ্রামের কিয়ামত আলীর ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য ফেরদোস আলী (৫০), আল মাজুল মোল্লার ছেলে আকাশ (২৫), মৃত বক্স বিশ্বাসের ছেলে টুকু বিশ্বাস (৪০), সিরাজুল ইসলামের ছেলে হাসিব (১৩), আলতাব হোসেনের ছেলে অন্তর (১৬), ফজলু মোল্লার ছেলে আব্দুল হামিদ (৩২), মৃত জিরোত আলীর ছেলে আশরাফুল ইসলাম (৪৫), মৃত সমানের ছেলে আয়াত আলী (৪৫), নঈমুদ্দীন মোল্লার ছেলে নাহিদুল ইসলাম (৫৯), আয়ূব হোসেনের ছেলে নাহিদুল ইসলাম (৩৫) ওয়াজ কুরুনির ছেলে পিয়াস (২৫), মৃত শওকত আলীর ছেলে আলী ইয়াছিনসহ (৫০) ২১ জন।

অন্যদিকে ঝিনাইদহে ভোটের পর নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের ঝামেলার জেরে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৮ জানুয়ারি) সকালে ঝিনাইদহ-২ আসনের সদর উপজেলার পোড়াহাটি ইউনিয়নের বারইখালী, হীরাডাঙ্গা ও সুরাপাড়া গ্রামে এবং রোববার (৭ জানুয়ারি) রাতে ঝিনাইদহ-১ আসনের শৈলকুপা উপজেলার বগুড়া ইউনিয়নের বারইহুদা ও উমেদপুর গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

হামলাকারীরা ওই তিন গ্রামের প্রায় ৫০টি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় বাধা দেওয়ায় তাদের হামলায় নারীসহ আহত হয় অন্তত দশজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি শাহীন উদ্দিন বলেন, তিনটি গ্রামের কয়েকটি বাড়িঘর ভাঙচুর হয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে এলাকায় বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রাখা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ টহল বাড়ানো হয়েছে বলে জেলার সহকারী পুলিশ সুপার অমিত কুমার বর্মণ জানিয়েছেন।

Scroll to Top