১৪ এপ্রিল, ২০২৪
১ বৈশাখ, ১৪৩১

আগুন পোহাতে গিয়ে বৃদ্ধার মৃত্যু, চলতি মৌসুমে দগ্ধ ২৯

পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে কনকনে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আগুন পোহাতে গিয়ে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এদিকে আগুন পোহানোর ঘটনায় এই মৌসুমে ২৯ জন দগ্ধের তথ্য জানিয়েছে সদর হাসপাতাল। এদের মধ্যে কয়েকজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্র জানায়, উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে টানা শৈত্যপ্রবাহে জবুথবু জনজীবন। চরম দুর্ভোগে ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া মানুষ। কনকনে ঠাণ্ডার কারণে দুস্থ মানুষজন রাতেও ঠিকমত ঘুমাতে পারছেন না। জেলা শহর ছাড়াও জেলার প্রত্যন্ত এলাকায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করতে দেখা গেছে। এরই মধ্যে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আগুন পোহানোর সময় গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ২৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। এদের মধ্যে চলতি জানুয়ারি মাসেই ১৫ জন অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।

গত ১৬ জানুয়ারি বিকালে বাড়ির উঠানে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের কাছে বসে হাত পায়ে উষ্ণতা নিচ্ছিলেন ফেলাই বেওয়া নামে এক বৃদ্ধা। হঠাৎ তার পড়নের কাপড়ে আগুন ধরে যায়। এক পর্যায়ে শরীরে আগুন লাগলে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। আগুনে তার মুখ, গলা, বুক ও কোমড় থেকে পা পর্যন্ত শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। ১০ দিন ধরে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসারত অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে তিনি মারা যান। ফেলাই বেওয়ার বাড়ি পঞ্চগড় পৌরসভা এলাকার তেলিপাড়া মহল্লায়।

এ ছাড়া তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর এলাকার তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী রেজিয়া বেগম, উপজেলা সদরের কামাত কাজলদীঘি ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকার মালেকুল ইসলামের ছেলে ওয়াবুল ইসলাম (২১), গরীনাবাড়ি ইউনিয়নের সিপাহিপাড়া ফুটকিবাড়ী এলাকার বিপ্লব হোনের চার বছরের ছেলে আব্দুল্লাহ, সাতমেরা ইউনিয়নের গোয়ালঝাড় এলাকার দুলাল হোসেনের তিন বছরের কন্যা আসমা উল হুসনা, অমরকানা ইউনিয়নের শিংপাড়া এলাকার মাসুদ রানার তিন বছরের ছেলে আবরারসহ আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

তেঁতুলিয়া উপজেলার দেবনগর এলাকার রেজিয়া বেগমের ছেলে হাসিবুল ইসলাম বলেন, আমার মা সকালে আগুন পোহাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার কাপড়ে আগুন লেগে যায়। এক পর্যায়ে তার হাত এবং পা পোড়া যায়। পরে মাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে আমার মা সুস্থ আছেন।

ফেলাই বেওয়ার মেয়ে নহিমা বেগম বলেন, আগুন পোহাতে গিয়ে আমার মা কিভাবে যে দগ্ধ হলেন আমরা বুঝতে পারিনি। তাকে দেখা মাত্রই আগুন নিভিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে গেছে। খুব কষ্ট পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে আমার মা মারা যান।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মখলেছুর রহমান বলেন, আগুন পোহাতে গিয়ে অগ্নিদগ্ধ ফেলানি বেওয়া চিকিৎসারত অবস্থায় মারা গেছেন। এ ছাড়া বেশ কয়েকজন শিশুসহ বিভিন্ন বয়সি মানুষ অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এই মৌসুমে ২৯ জন অগ্নিদগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

Scroll to Top