১৪ এপ্রিল, ২০২৪
১ বৈশাখ, ১৪৩১

জ্বালানি ও ভোজ্য তেল পাচার: তৎপর হোন

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে প্রতিদিনই পাচার হয়ে যাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রায় আমদানি করা বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও ভোজ্য তেল। বাংলাদেশ সীমান্তের আরাকান রাজ্যের সঙ্গে গৃহযুদ্ধকবলিত মিয়ানমারের অন্যান্য রাজ্যের যোগাযোগ অবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ থেকে চোরাচালান হয়ে যাওয়া জ্বালানি ও ভোজ্য তেল তাদের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিয়ানমারে জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের দাম বাংলাদেশের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি। রাতের আঁধারে সাগরতীরের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে তেল পাচারের খবর পেয়ে কক্সবাজারের র‌্যাব-১৫ সদস্যরা আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৯০০ লিটার অকটেন উদ্ধার করেছেন। সেই সঙ্গে অকটেন পাচারে জড়িত ছয় পাচারকারীকে গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার অকটেন ৬৯টি প্লাস্টিক কনটেইনারে করে নৌকায় পাচার করা হচ্ছিল মিয়ানমারে। পাচারকারীরা উখিয়ার একটি তেলের পাম্প থেকে প্রতি লিটারে ১৩৫ টাকা করে অকটেন কিনে নিয়ে যাচ্ছিল। মিয়ানমারের মংডু শহরে প্রতি লিটার ভোজ্য তেলের দাম ১ হাজার ৪৫০ টাকা। প্রতি লিটার অকটেনের দাম ৬০০ টাকা ও প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ৪০০ টাকা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-১৫ এর একটি দল শুক্রবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর ব্রিজের ওপর বিশেষ অভিযান চালিয়ে টেকনাফ অভিমুখী দুটি পিকআপ ভ্যান আটক করে। গ্রেফতার হওয়া পাচারকারীরা পিকআপে করেই ৬৯টি কনটেইনারে ভরে বিপুল পরিমাণ অকটেন মিয়ানমারমুখী নৌকায় করে পাচারের জন্য নিয়ে যাচ্ছিল। কক্সবাজারের মিয়ানমার সীমান্ত অঞ্চলের কুখ্যাতি ছিল মাদক পাচারের জন্য। প্রতিবেশী দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ মাদক আসত বাংলাদেশে। এখন মাদকের চেয়ে লাভজনক হয়ে উঠেছে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল চোরাচালান। বাংলাদেশ জ্বালানি ও ভোজ্য তেলের জন্য বিদেশনির্ভর। বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় করে যে জ্বালানি ও ভোজ্য তেল আমদানি হচ্ছে তা মিয়ানমারে পাচার করার বিনিময়ে আসছে মাদকদ্রব্য। এর ফলে তরুণ সমাজ মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে। যা অবসানে সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবিকে আরও তৎপর হতে হবে।

Scroll to Top