১৮ এপ্রিল, ২০২৪
৫ বৈশাখ, ১৪৩১

আন্তর্জাতিক নারী দিবস

নারী অধিকার প্রতিষ্ঠার শপথ নেওয়ার মহিমান্বিত দিন আন্তর্জাতিক নারী দিবস আজ। ১৯১০ সালে ডেনমার্কে অনুষ্ঠিত নারীদের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ দিনটি আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১৯৮৪ সালে জাতিসংঘও ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের স্বীকৃতি দেয়। তার পর থেকে প্রায় সব দেশেই দিনটি বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে পালন করা হয়। মানব সমাজ নারী অধিকার প্রতিষ্ঠায় কতটা এগোলো সে বিশ্লেষণও করা হয় এই দিনে। বাংলাদেশে নারী উন্নয়নকে টেকসই উন্নয়নের পথ হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারীর উন্নয়ন ছাড়া যে জাতীয় উন্নয়ন সম্ভব নয়; তা অনুধাবন করে প্রতিটি সরকার এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছে। এর ফলে দেশের রাজনীতিতে নারীরা দ্রুত স্থান করে নিতে সক্ষম হচ্ছে। জাতীয় অর্থনীতিতে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে নারীর ভূমিকা। দেশের প্রধান রপ্তানিপণ্য পোশাকশিল্পে কর্মরত ৪০ লাখ শ্রমিকের সিংহভাগ নারী। তিন দশকের বেশি সময় ধরে দেশের সরকারপ্রধান ও বিরোধীদলীয় প্রধানের পদ নারী রাজনীতিকদের হাতে থাকার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী বাংলাদেশ। এ মুহূর্তে দেশের সংসদ নেতা ও উপনেতা এবং স্পিকার পদে যাঁরা আছেন তাঁরা নারী। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, কৃষি ও শিক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় এ দেশের নারীরা পরিচালনার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। অর্থনীতি ও রাজনীতিতে অগ্রসর দেশগুলোর তুলনায় খুব বেশি পিছিয়ে না থাকলেও এখনো এ দেশের নারীরা ধর্মীয় গোঁড়ামি এবং সামাজিক অনাচারের শিকার। দেশের ৮০ ভাগ নারীই সহিংসতার শিকার কোনো না কোনোভাবে। এ সহিংসতা দেশজ উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব রাখছে। পুরুষতান্ত্রিক মনোভাব নারীর ক্ষমতায়নে অন্তরায় হয়ে বিরাজ করছে। নারীর প্রতি সহিংসতার ক্ষেত্রে কারও কারও আচরণ আইয়ামে জাহেলিয়াকেই যেন মনে করিয়ে দেয়।

Scroll to Top