১৪ এপ্রিল, ২০২৪
১ বৈশাখ, ১৪৩১

বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন দেয়ার বর্ণনা দিলেন আটক যুবদল নেতা

ঢাকা : আটক ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্য কাজী মোহাম্মদ মনসুর আলম জানিয়েছেন, আগুন দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেসের কয়েকটি বগি পুড়িয়ে দেওয়া এবং অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির ঘটনা পুরোটাই পরিকল্পিত। বিএনপি নেতাদের উপস্থিতিতে ভার্চুয়াল একটি বৈঠকের মাধ্যমে ট্রেনে নাশকতার ওই ঘটনার পরিকল্পনা করা হয়।

শনিবার (৬ জানুয়ারি) ভোররাতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। মনসুরের স্বীকারোক্তির ওই ভিডিও গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে। সেখানেই উঠে এসেছে নাশকতার পরিকল্পনার বিস্তারিত।

মনসুর আলম জানান, বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেওয়ার আগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনামের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি একটি বৈঠক হয়। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ১৭ মিনিটের ওই বৈঠক হয় শুক্রবার বিকাল ছয়টা ২ মিনিটে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ট্রেনে আগুন দেয়ার। সিদ্ধান্ত হওয়ার পর নাশকতার দায়িত্ব দেয়া হয় একজনকে। এরপর রাত ৯টা ৫ মিনিটে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন দেয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বলেন, আমরা ভার্চুয়ালি মিটিং করি। মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক, সদস্য সচিবসহ আমাদের যতগুলো টিম আছে তাদের টিম লিডাররা মিটিংয়ে অংশ নেন। সেখানে দুটি সিদ্ধান্ত হয়েছে, একটি থানা ভিত্তিক, আরেকটি ট্রেনের ব্যাপার নিয়ে।

এসময় কোরআন শরীফে হাত দিয়ে মনসুর তার বাচ্চার কসম কেটে বলেন, আমি সব সত্যি বলছি। আমি কাউকে ফাঁসাইতে চাই না কিংবা মিথ্যা কথা বলছি না। থানা আর ওয়ার্ডভিত্তিক টিমগুলোকে ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্র জ্বালিয়ে দেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়। আরেকটি সিদ্ধান্ত হলো, ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ভীতি সৃষ্টি করার জন্য, যাতে ভোটাররা না আসে।

মনসুর বলেন, ট্রেনের বিষয়ে একটা কাজ ছিল, সেটা কে করতে পারবে তা জিজ্ঞেস করেছিল আমাদের সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়ন। মিটিংয়ে সভাপতিত্ব করেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার এনামুল হক এনাম। তখন নির্দেশনা ছিলো, কথা অল্পের মধ্যে শেষ করে দেয়ার জন্য।

‘সদস্য সচিব জানতে চাইল, ট্রেনে কে কাজ করতে পারবে? কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী ট্রেনকে নরসিংদী কিংবা গাজীপুরের কোথাও ঢাকায় ঢোকার আগে, আর তা না হলে নারায়ণগঞ্জের রুটে আপ অ্যান্ড ডাউন যেকোনো জায়গায়। মিটিংয়ে অনেকেই ইচ্ছা প্রকাশ করলে সদস্য সচিব নির্দিষ্ট করে দেন কে কাজটি করবে।

ওই বৈঠকের মনসুরকে ট্রেনে নাশকতার দায়িত্ব দেয়া হয় বলে জানান তিনি। মনসুর বলেন, তখন সদস্য সচিব বলছে, আপনি কাজটা করবেন। আমি আপনার সঙ্গে সোর্স দিয়ে দেবো। এই বিষয়ে পরে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলবো। এর মধ্যে সবাই গ্রুপ কল থেকে বেরিয়ে গেছে, তারা নিজেরা পার্সোনালি কথা বলছে।

পুলিশের লালবাগের উপকমিশনার মশিউর রহমান বলেন, বৈঠকের ধারাবাহিকতায় যুবদল দক্ষিণের আহ্বায়ক খন্দকার এনাম এবং সদস্য সচিব রবিউল ইসলাম নয়নের পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় বেনাপোল এক্সপ্রেসে আগুন দেয়া হয়। যুবদল দক্ষিণের দুই জন টিম লিডার, রবিউল ইসলাম নয়নের বিশ্বস্ত লালবাগের তিনজন দাগি বোমা সন্ত্রাসীসহ আরো কয়েকজন বোমা ও অগ্নি সন্ত্রাসীকে দিয়ে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনে অগ্নি সংযোগ করা হয়েছে।

এর আগে ট্রেনে নাশকতার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে শনিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে চকবাজার থানার বেরিবাদ চেয়ারম্যান ঘাট এলাকায় থেকে মনসুর আলমকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। মনসুরের নামে আগে থেকেই মামলা রয়েছে। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও একটি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি পুলিশের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বেনাপোল এক্সপ্রেসে ভয়াবহ নাশকতার পর কেরানীগঞ্জ দিয়ে পালানোর চেষ্টার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, মনসুর আলমের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগন ভুঁইয়ায়। স্থানীয় মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে জীবিকার অন্বেষণে চাকরি নেন ফকিরাপুলের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে। বিএনপির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে বিএনপির মিছিল মিটিং ও আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়ে পড়েন মনসুর। ২০২১ সালের যুবদল দক্ষিণের আহ্বায়ক কমিটিতে মনসুর আলম অন্যতম সদস্য মনোনীত হন। ওই কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মাওলা শাহীন এবং সদস্য সচিব খন্দকার এনামুল হক।

Scroll to Top