১৫ এপ্রিল, ২০২৪
২ বৈশাখ, ১৪৩১

বাড়ছে বিদ্যুতের দাম, মার্চ থেকে কার্যকর

অর্থনীতি রিপোর্ট : রমজানের আগেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

গ্রাহকপর্যায়ে প্রতি ইউনিটে গড়ে বিদ্যুতের দাম ৩৪ পয়সা বাড়ছে। তবে বেশি বিদ্যুৎ যারা ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে ৭০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়তে পারে। আগামী মার্চ মাস থেকে নতুন নির্ধারিত দাম কার্যকর হবে।

মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন আজই প্রকাশ হতে পারে বলেও জানান তিনি।

এসময় তিনি বলেন, আমাদের লাইফলাইন গ্রাহক (০ থেকে ৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী গ্রাহক) আছে ১ কোটি ৪০ লাখ। তাদের বিদ্যুতের দাম ৪ টাকা, আর উপরের দিকে এই দাম ৭ টাকা। কিন্তু উৎপাদন খরচ ১২ টাকা। এতে সরকারকে একটা বড় অংশ এইখাতে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। এই ভর্তুকির আরও বাড়ছে কারণ ডলারের দাম বাড়ছে। এই পার্থক্যটা হঠাৎ বড় রকমের লাফ দিয়েছে গত বছর থেকে। আমরা যদি এখন থেকে অ্যাডজাস্টমেন্টে যাচ্ছি। যা আগামী তিন বছরে মধ্যে সমন্বয় করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘তবে এটি যাতে সহনীয় পর্যায়ে হয়, সে বিষয়টি আমরা দেখছি।’

যে দাম বাড়ছে, তা খুব বেশি নয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখন খুবই অল্প পরিমাণ… প্রতি ইউনিটে গড়ে ৩৪ পয়সা মূল্য বাড়িয়েছি। এটি পরিমাণে খুবই অল্প।’

বিদ্যুতের দাম মূলত উৎপাদনে ব্যবহৃত জ্বালানির দামের ওপর নির্ভর করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখন কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। যখন আমরা কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র উৎপাদনে নিয়ে এসেছি, তখন কয়লার যে দাম ছিল এবং ডলারের যে মূল্যমান ছিল তার অনেক পরিবর্তন হয়েছে। ডলারের দাম প্রায় ৪০ টাকা বেড়েছে।’

বিদ্যুতে ভর্তুকির বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই বছর আমাদের বিদ্যুতের ক্ষেত্রে ভর্তুকি দিতে হবে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা, আর জ্বালানির ক্ষেত্রে ৬ হাজার কোটি টাকা। এগুলো আমরা কয়েক বছরে ধীরে ধীরে অ্যাডজাস্টমেন্টে যাবো। আমরা এরইমধ্যে কুইক রেন্টাল থেকে বেরিয়ে এসেছি, ডিজেল থেকে বেরিয়ে এসেছি। এখন আমাদের বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো (কয়লাভিত্তিক) চলে এসেছে। আগামী বছর থেকে নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র চলে আসবে (চালু হবে)। ভারত থেকে আমরা কম রেটে বিদ্যুৎ পাচ্ছি। আগামী দুই বছরের মধ্যে ২ হাজার মেগাওয়াট সোলার থেকে বিদ্যুৎ পাবো আমরা। তারপরও যে ভর্তুকিটা রয়ে যাবে, তা ডলার রেটের কারণে। একারণে আমাদের প্রাইস অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে হবে।’

এর আগে সোমবার গণমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদ্যুতে ভর্তুকি থেকে বের হওয়ার জন্য দাম সমন্বয় করা হবে। মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বিদ্যুতের এই নতুন দাম কার্যকর হবে।

প্রসঙ্গত, সর্বশেষ ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি নির্বাহী আদেশে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়।

Scroll to Top