১৪ এপ্রিল, ২০২৪
১ বৈশাখ, ১৪৩১

চার দিনের ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ

ঢাকা : বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ ও স্মার্ট প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ রবিবার (৩ মার্চ) শুরু হচ্ছে চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন। সকাল ১০টায় তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনও বক্তব্য রাখবেন।

জানা গেছে, জেলা প্রশাসক সম্মেলন— যা সচরাচর ‘ডিসি সম্মেলন’ নামেই বহুল পরিচিত। বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের লক্ষ্য ও করণীয় সম্পর্কে ধারণা দিতেই এ সম্মেলন চলবে ৬ মার্চ (বুধবার) পর্যন্ত। সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার ডিসিসহ ৮টি বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার অংশগ্রহণ করবেন। সম্মেলনে এবার প্রথমবারের মতো প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও চার কমিশনারের সঙ্গেও ডিসিরা বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। তবে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার কথা রয়েছে। তিনি দেশের বাইরে গেলে এবার ডিসিদের সঙ্গে নতুন রাষ্ট্রপতির সাক্ষাৎ হবে না।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অনুবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, গত বছরের মতো এবারও জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মূল অনুষ্ঠান কার্য-অধিবেশনগুলো অনুষ্ঠিত হবে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে।
সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের আলোচ্য সূচিতে নিত্যপণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নেওয়া, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখা, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো ও কৃষিজমি নষ্ট না করা, জেলা পর্যায়ে পর্যটন বিকাশে উদ্যোগ নেওয়া, পরিবেশদূষণ রোধে ব্যবস্থা, জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ গ্রহণ, সেচ মৌসুমে জ্বালানি সরবরাহ যথাযথ রাখা, শিক্ষায় নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নে মনিটরিং জোরদার, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার ও রাজস্ব বাড়ানোয় সহযোগিতাসহ ইত্যাদি বিষয় যুক্ত থাকছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ার রূপরেখাও থাকছে এবারের ডিসি সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে ৫৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, কার্যালয় ও সংস্থা সম্পর্কে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রায় ৩৫০টি প্রস্তাব এসেছে। গত বছর এ প্রস্তাবের সংখ্যা ছিল ২৪৫টি।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে উদ্বোধনের পর বিকাল ২টা থেকে কার্য-অধিবেশন শুরু হবে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। কার্য-অধিবেশনগুলোতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী, উপমন্ত্রী, সিনিয়র সচিব ও সচিবরা উপস্থিত থাকবেন। সম্মেলন উপলক্ষে জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা লিখিতভাবে মাঠ প্রশাসনের সমস্যাগুলো নিয়ে প্রস্তাব দেন। অধিবেশনের সময় এগুলো ছাড়াও ডিসিরা সাধারণত তাৎক্ষণিক বিভিন্ন প্রস্তাবও তুলে ধরেন। কার্য-অধিবেশনগুলোতে সভাপতিত্ব করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, সম্মেলনে উদ্বোধন অনুষ্ঠান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মুক্ত আলোচনাসহ তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও মতবিনিময় করে থাকেন ডিসিরা। এছাড়াও বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সঙ্গে ডিসিদের কার্য-অধিবেশন রয়েছে। স্পিকার ও প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ এবং একটি সমাপনী অনুষ্ঠানও হয়ে থাকে।

Scroll to Top