১৩ এপ্রিল, ২০২৪
৩০ চৈত্র, ১৪৩০

ওয়াল স্ট্রিট জর্নাল: ‘হাসিনার জয়, বাইডেনের পরাজয়’

মিরর ডেস্ক : দেশের মানুষ আগামী ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে যাচ্ছেন। এ উপলক্ষে দেশি বিদেশি পত্রিকায় এ নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের মতামত ও প্রতিবেদন প্রকাশ হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী গণমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালে বাইডেনের ‘গণতন্ত্র প্রচারের’ সীমাবদ্ধতা দেখিয়ে দিল বাংলাদে ‘ শিরোনামে মতামত লিখেছেন আমেরিকান লেখক ও কলামিস্ট সদানন্দ ধুমে।

তিনি লিখেছেন, বিএনপির নির্বাচন বয়কটের কারণে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ ১৭ কোটি মানুষের দেশটিতে টানা চতুর্থবারের মতো বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। শেখ হাসিনার বিজয় মানে প্রেসিডেন্ট বাইডেনেরও পরাজয়। কারণ, বাইডেন বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে গণতন্ত্রকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছিলেন।

সদানন্দ ধুমে তার কলামে লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা বর্তমান বিশ্বে নির্বাচিত যেকোন নারী নেত্রীর চেয়ে বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থেকে একটি চমকপ্রদ কূটাভাস উপস্থাপন করেছেন। তিনি মৌলবাদী শক্তিকে দমন করেছেন এবং তার দেশকে চরম দারিদ্র্য থেকে বের করে এনেছেন- যা অনেক উন্নয়নশীল দেশের নেতারা দেখাতে পারেননি।’

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সঙ্গে বাইডেনের প্রশাসনের তুলনা করে নিবন্ধে লেখা হয়, হোয়াইট হাউজ মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং বিরোধীদলগুলোকে গণগ্রেপ্তারের দায়ে শেখ হাসিনার সরকারকে শায়েস্তার চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেখ হাসিনা এসব প্রচেষ্টায় কৌশলে এড়িয়ে গেছেন। পাশাপাশি বিরোধী দল বা সুশীল সমাজকে আরও ছাড় দিতে কোনভাবেই তাকে রাজি করানো যায়নি।

কলাম লেখক লিখেছেন, ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে শেখ হাসিনার দুর্বলতা যাই হোক না কেন, তার বিকল্পটি আরও খারাপ। সর্বশেষ বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, তখন তারা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা চালিয়েছিল এবং যারা ভারতকে টার্গেট করেছিল সেই বিচ্ছিন্নতাবাদী ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিয়েছিল । ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা নীপিড়নের জন্য দায়ী জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে জোটবদ্ধ ছিল। ভারতীয়রা এই বিএনপির আরেকটি সরকারের ওপর ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

বাংলাদেশ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কে ব্যর্থতা স্পষ্ট। কারণ তাত্ত্বিকভাবে দেশটি বাইডেনের মূল্যবোধ-কেন্দ্রিক পররাষ্ট্রনীতির জন্য একটি আদর্শ পরীক্ষার ক্ষেত্র ছিল। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে থাকা দেশটি  অন্যান্য অনেক উন্নয়নশীল দেশের চেয়ে এর গণতান্ত্রিক শেকড় গভীর। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ভারতের অংশ হিসেবে, বাংলাদেশ নির্বাচনের পাশাপাশি একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ এবং মুক্ত গণমাধ্যমের মতো উদার প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে পরিচিত ছিল। বাংলাদেশের অনেক নেতৃস্থানীয় সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী পাশ্চাত্যে শিক্ষিত ছিলেন। ২০০৬ সাল পর্যন্ত দেশটিতে বিরোধী দল ছিল বিএনপি, যারা আওয়ামী লীগের সাথে ক্ষমতা রদবদল করার জন্য যথেষ্ট জোরালো ছিল।

হোয়াইট হাউজের বুঝা উচিত ছিল, আওয়ামী লীগ এমন একটা দল যারা ইসলামাবাদের পক্ষে মার্কিন সমর্থন থাকার পরেও ১৯৭১ সালে বাংলাদেশকে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন করতে ভূমিকা রেখেছিল ভারত। রাশিয়া, চীন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভারতসহ সমর্থকদের একটি অপ্রত্যাশিত জোট গঠনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা দক্ষতার সঙ্গে মার্কিন চাপ মোকাবিলা করেছেন। ভারত হাসিনাকে অস্থিতিশীলতার মাঝে স্থিতিশীলতার রক্ষাকবচ হিসেবে দেখে থাকে।

লেখক আরও দাবি করেন, বাইডেন যুক্তরাষ্ট্রের দুটি হাই-প্রোফাইল ‘সামিট ফর ডেমোক্রেসি’ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দিলেও খারাপ রেকর্ড রয়েছে এমন বেশ কয়েকটি দেশকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে বাংলাদেশের র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন- র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত বছর ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে তার উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের নির্বাচনকে ‘দুর্বল করার জন্য দায়ী বা জড়িত’ হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার কথা বলেছিল। কিন্তু এসব পদক্ষেপ শেখ হাসিনাকে দমাতে পারেনি।

নিবন্ধটি বলা হয়, বাংলাদেশে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের ব্যর্থতা আরও দেখায় যে একটি জটিল সমাজে সফলভাবে এগিয়ে যাওয়ার চেয়ে গণতন্ত্রের বিষয়ে কথা বলা কত না সহজ ।

Scroll to Top