১৩ জুন, ২০২৪
৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
Mirror Times BD

আবহাওয়া রাতে বিপদের পর্যায়ে যেতে পারে, প্রস্তুত ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র: প্রতিমন্ত্রী

সাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপ ক্রমেই উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে। গভীর নিম্নচাপটি যে কোনও সময় ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে। ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘রেমাল’, আরবি এই শব্দের অর্থ বালু। নামটি দিয়েছে ওমান। সম্ভাব্য এই ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে আজ শনিবার (২৫ মে) রাত থেকেই মহাবিপদ (১০ নম্বর) সংকেত দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।

দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি বাস্তবায়ন বোর্ডের জরুরি সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ, ভারত, চীন, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া অফিসের সঙ্গে সমন্বয় রেখে পরিষ্কার বুঝতে পারছি ঘূর্ণিঝড়টি আসন্ন। আমরা সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছি। এখন পর্যন্ত ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্ক সংকেত থাকলেও আগামী ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে সংকেত ৩-এ চলে যাবে (ইতোমধ্যে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত জারি হয়েছে)। সন্ধ্যা নাগাদ বা রাতে ৪-এর ওপরে এবং রাতের বেলা বিপদের পর্যায়ে চলে যেতে পারে।’

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস পর্যালোচনা করে মনে হয়ছে, ঘূর্ণিঝড় আসন্ন, সেটা মাথায় রেখে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘রবিবার ভোর থেকে এটা প্রাথমিক আঘাত হানতে পারে। এরপর সন্ধ্যা নাগাত মূলটা আঘাত হানবে। পূর্বাভাসে আমরা এরকমই বুঝতে পারছি এবং আজকে রাত ১২টা থেকে ১টার মধ্যে এটা ডেঞ্জার পয়েন্টে চলে যেতে পারে।’

প্রায় ৮০ হাজার স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ঘূর্ণিঝড়ে সাতক্ষীরা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পুরো এলাকা কম-বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সাত থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত জলোচ্ছ্বাস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়ের সঙ্গে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, ফলে পাহাড়ি অঞ্চলে প্রচুর ভূমিধস হতে পারে। সব কিছু মাথায় রেখে সার্বিক প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি।’

সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড়ের প্রস্তুতি হিসেবে এরই মধ্যে ৪ হাজার আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান। তিনি বলেন, ‘পর্যাপ্ত খাবার ও সরঞ্জাম রয়েছে। অতিরিক্ত প্রয়োজন হলে যেন ঢাকা থেকে সরবরাহ করা যায়, সেই প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।’

এদিকে আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পূর্বমধ্য বঙ্গোপসাগর ও পশ্চিমমধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত গভীর নিম্নচাপটি উত্তরদিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে।

গভীর নিম্নচাপটি উপকূলের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে। সকালের তুলনায় প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার এগিয়ে এসে দুপুরে উপকূল থেকে ৪২৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। নিম্নচাপের প্রভাবে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠায় ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সাগরের মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে অতি দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

গভীর নিম্নচাপটি শনিবার (২৫ মে) চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে সকালে ছিল ৫৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিম, দুপুরে তা আরও ৬৫ কিলোমিটার এগিয়ে ৫০০ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল। কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে সকালে ছিল ৪৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে, দুপুরে ৬০ কিলোমিটার এগিয়ে ৪৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণপশ্চিমে আছে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৫৪০ কিলোমিটার দূরে, দুপুরে এটি এগিয়ে ৪৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণে আছে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ছিল ৪৯০ কিলোমিটার দূরে, দুপুরে তা এগিয়ে ৪২৫ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হতে পারে।

⠀শেয়ার করুন

⠀আরও দেখুন

Scroll to Top