১৩ জুন, ২০২৪
৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
Mirror Times BD

আপনাদের মানা না মানায় কী আসে যায়?

লীনা পারভীন : বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের হাস্যকর করতে করতে কোন পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে সেটা হয়তো নিজেরাও জানে না। সত্যি আফসোস হয় যে এই লোকগুলোর অনেকেই একটা সময় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে শ্রদ্ধার ছিলেন বা মানুষের কাছে মোটামুটি গ্রহণযোগ্যতাও পেতেন।

খবরে দেখলাম বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো রাস্তায় দাঁড়িয়ে স্বাক্ষর সংগ্রহ কর্মসূচি করছে। বিষয় কী? বিষয় চিরাচরিত নিয়মেই জনগণের কোনও ইস্যু নয়। তারা নির্বাচন মানেন না। এই নির্বাচন বাতিল চায়। এর চাইতে হাস্যকর আর কোনও আলাপ কি হতে পারে?

ভাবতে পারেন যে এরাই এদেশে বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বলে পরিচিত? নির্বাচন বাতিল চায় কোন গ্রাউন্ডে? কে করবে বাতিল? ইতোমধ্যে নতুন সরকার তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। শেখ হাসিনা এ দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশি- বিদেশি সবার কাছ থেকে অভিনন্দন পাচ্ছেন। সর্বশেষ পেরেকটা মেরে দিলো জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে নামানোর জন্য যাদের দুয়ারে দুয়ারে আর্তনাদ করে আসছিল, সেই ত্রাতা দেশগুলোও একের পর এক এই সরকারকে গ্রহণযোগ্যতা দিয়ে দিলো।

আমেরিকা তো এক পা এগিয়ে এসে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।

সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিভিন্ন ইস্যুতে নতুন সরকারের মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত কার্যক্রম চলছে। অর্থাৎ তারা নির্বাচন মানুক আর না মানুক, শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকারই এখন ক্ষমতায়। তাহলে কি মান্না সাহেবরা শেখ হাসিনার কাছেই নির্বাচন বাতিলের দাবি করছেন? মান্না সাহেবরা কি লজ্জারও সীমা অতিক্রম করে গেছেন?  তাদের এই দাবি নিয়ে দেশের একজন মানুষেরও কি আগ্রহ আছে? নির্বাচন হয়ে গেছে, নতুন সরকার শপথও গ্রহণ করে ফেলেছে। মানুষ সবাই যার যার জায়গায় ফিরে গেছেন। এখন সবাই অপেক্ষায় আছেন নতুন সরকারের নতুন মন্ত্রিসভার কে কীভাবে কাজ করবে সেটি দেখার জন্য। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্রব্যমূল্যের বাড়তি গ্রাফকে কেমন করে নিম্নমুখী করবে বা অর্থমন্ত্রী কতটা শক্তিশালী উপায়ে আর্থিক খাতের অস্থিরতাকে সহনশীল পর্যায়ে নিয়ে আসতে পারবে সেই কৌশল জানতে আগ্রহী সাধারণ মানুষ।

আমি তো বলি বিএনপি বা ক্ষয়িষ্ণু বাম দলগুলোর যদি সামান্য অস্তিত্বও টিকিয়ে রাখতে হয় তাহলে এসব সার্কাস ছেড়ে বরং অপেক্ষা করা উচিত সরকার কবে কখন প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজ না করে ভুল পথে হাঁটতে শুরু করে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী বড় গলা করে বলেছেন জুলাই থেকে বাজারে আর সিন্ডিকেট থাকবে না– সেই কথা বাস্তবায়নে চাপ দেওয়া উচিত।

তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, অবাধ তথ্য প্রবাহ নিশ্চিতের পথকে আরও প্রশস্ত করার জন্য তিনি কাজ করবেন। সেই কথায় যদি কোনও বরখেলাপ পাওয়া যায় তাহলেই কথা বলা উচিত।

অর্থাৎ সরকার মানি না বা নির্বাচন মানি না’র স্লোগান এখন একটি মেয়াদোত্তীর্ণ আলাপ। এসব আলাপ করে কেবল ফান্ডের টাকায় চা খেয়ে তৃপ্তির ঢেকুর তোলা যাবে, কিন্তু রাজনীতির মাঠ গরম হবে না। বরং মানুষের কাছে সার্কাসের প্লেয়ারের চাইতেও বড় ক্লাউন হিসেবে পরিচিতি বেড়ে যাবে।

রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের সমস্যা চলছে। মানুষের এখন নিত্যব্যবহার্য গ্যাসের সংকট চরমে। নিত্য খরচের তালিকায় নতুন যুক্ত হয়েছে সিলিন্ডার বা গ্যাসের বিকল্প আয়োজনের খরচ। গ্যাসের সমস্যা না মিটলে ধীরে ধীরে সেটা গিয়ে বাণিজ্যিক সেক্টরেও ধাক্কা দিবে। ধাক্কা আসবে বিদ্যুতেও। অথচ এসব নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর একটি শব্দও উচ্চারণ নেই। গোটা বিষয়টাই এখন একটি চরম কৌতুকোদ্দীপক হয়ে যাচ্ছে।

মজুতদারদের বিরুদ্ধে শক্ত উচ্চারণ করেছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।আমি তো চাই আমাদের বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিরাও সেই উচ্চারণের সঙ্গে গলা মিলাক। ‘সিন্ডিকেট’ আমাদের দেশের প্রতিটা সেক্টরে এখন একটি বিশাল সমস্যার নাম। কী পরিবহন, কী অর্থ বা বাণিজ্য সব জায়গাতেই সরকারকে সিন্ডিকেটের সঙ্গে লড়তে হচ্ছে। মাহমুদুর রহমান মান্নার মতো একসময়কার ছাত্রনেতার মুখে তো সে নিয়ে কোনও বক্তব্য আসে না। কেন আসে না? তাহলে কি দেশে কেবল এক শেখ হাসিতেই সমস্যা খুঁজে পান ওনারা?

ওনাদের মগজে যদি বিন্দুমাত্র রাজনৈতিক জ্ঞান এখনও অবশিষ্ট থেকে থাকে তবে এটা বুঝতে অসুবিধা হবার কথা নয় যে ‘সরকার মানি না বা নির্বাচন মানি না’ বলার রাজনীতিকে আপাতত মাটিচাপা দিয়ে দিয়েছে দেশের জনগণ।

জনগণ এখন হিসাব করে মেট্রোরেলের সময় আরও কতটুকু বাড়লো। মানুষ এখন মুখিয়ে থাকে কবে পাতাল পথের কাজ শুরু হবে। পদ্মা সেতুর মাধ্যমে আরও কোন কোন বাণিজ্যিক সুবিধাকে সাধারণ মানুষের আয়ত্তের মাঝে নিয়ে আসবে সরকার সেই কাজ দেখতে চায় সবাই।

এখন আর সেই দিন নাই যে মানুষকে যা-তা দিয়ে যা ইচ্ছা তাই খাওয়ানো সম্ভব হবে। মানুষ তাদের নিজের ভালো কী, সেটা বুঝে গেছে। যে সরকার ক্ষমতায় এসে মানুষের দুর্ভোগকে লাঘব করবে সবাই এখন সেই সরকারকেই চায়। আর অন্তত এটুকু তো পরিষ্কার যে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের সরকার মানুষের সেই জায়গাটিকে ভালোভাবেই বুঝতে পেরে কাজ করে যাচ্ছে।

লেখক: কলামিস্ট

(প্রকাশিত লেখাটির মতামত লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত কলামের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে কোন আইনগত ও অন্য কোন ধরনের দায়-ভার মিরর টাইমস্ বিডি বহন করবে না)।

⠀শেয়ার করুন

⠀আরও দেখুন

Scroll to Top