১৩ জুন, ২০২৪
৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১
Mirror Times BD

‘ড. ইউনূসের সাজা হওয়ায় কোনও দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হবে না’

সিলেট : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, ‘গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. মুহাম্মদ ইউনূস আমাদের জাতীয় সম্পদ। তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী। আমরা তাকে অত্যন্ত সম্মান করি। কিন্তু পৃথিবীতে বহু সম্মানিত লোক আছেন, যারা ক্রাইম করেন। তারা শাস্তিও পান। ড. ইউনূস অপরাধ করেছেন। আমি যেটা জানি, তিনি শ্রমিকদের টাকা দেননি। তাদের ঠকিয়েছেন। সেজন্য শাস্তি পেয়েছেন। এটি আদালতের ব্যাপার। আইন অনুযায়ী তার বিচার হয়েছে। এতে কোনও দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক খারাপ হবে না। কারণ প্রত্যেক দেশই আইনকে সম্মান করে। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সব সুযোগ তিনি পেয়েছেন।’

নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কারাদণ্ড হওয়ায় বিদেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ৭টায় সিলেট নগরের হাফিজ কমপ্লেক্সে প্রবাসীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেইসঙ্গে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন। ব্যক্তিগতভাবে আমি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সম্মান করি। পৃথিবীতে অনেক নোবেলজয়ী অন্যায় করেছেন, অপরাধ করেছেন। এজন্য তাদেরও শাস্তি হয়েছে। এতে কোনও দেশের সঙ্গে কোনও দেশের সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। কারণ প্রত্যেক দেশই আইনকে শ্রদ্ধা করে। ফলে ড. ইউনূসের সাজা হওয়ায় আমাদেরও কোনও সমস্যা হবে  না।’
এবারের ‘নির্বাচনের ফলাফল পূর্বনির্ধারিত’ সম্প্রতি বিবিসিতে প্রকাশিত এমন সংবাদের ব্যাপারে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিবিসি একটি মিডিয়া। মিডিয়া অনেক সময় অনেক কিছু করে পাঠক টানতে চায়। তারা প্রায়ই এরকম করে। কিন্তু মিডিয়ার রিপোর্ট দেখে কোনও দেশই তাদের পররাষ্ট্রনীতি ঠিক করে না। সব সরকারই বিচার-বিশ্লেষণ করে, নিজেদের স্বার্থ ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়।’

আমাদের লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করা জানিয়ে ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘এটি করতে পারলেই আমরা সফল। আমাদের দেশবাসী কী বললো, সেটাই বড় কথা। দেশবাসী যদি নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য মনে করে তবেই আমরা সফল। অন্য কে কী মনে করলো, সেটা সেকেন্ডারি বিষয়।’

উল্লেখ্য, শ্রম আইন লঙ্ঘন করে গ্রামীণ টেলিকমের শ্রমিকদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ ইউনূসসহ চার কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। ইউনূস ছাড়া প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও দুই পরিচালককে ছয় মাস করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায় ঘোষণার পর একই আদালতে জামিনের আবেদন করেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আপিলের শর্তে তাকে এক মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন আদালত।

⠀শেয়ার করুন

⠀আরও দেখুন

Scroll to Top